ই-কমার্স আইনের প্রস্তাব দিলেন পলক
ই-কমার্স স্ক্যাম ঠেকাতে ই-ক্যাব ও এটুআই এর সঙ্গে মিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সল্যুশন দিয়েছে আইসিটি বিভাগ। কিন্তু এর মধ্যে তিনটি সল্যুশন- ডিজিটাল বিজনেস আইডি, সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ও ইন্টারঅপারেবল ট্রাঞ্জেকশন প্লাটফর্ম চালু করা হলেও দীর্ঘ দিনেও আলোর মুখ দেখেনি লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। ফলে এটি বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন, আমাদের তিনটি প্লাটফর্ম তৈরি হয়ে উদ্বোধন হয়ে গেছে। প্রত্যাশা করবো পোস্ট ডিভিশন থেকে যদি একটু সহযোগিতা করা হয় তাহলে এটুআই-ইক্যাব মিলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে লজিস্টিক ট্র্যাকিং সিস্টেমটি ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের উপহার দিতে পারবো।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আয়োজিত ‘ই-কমার্স মুভার্স অ্যাওয়ার্ডস (ইসিএমএ) ২০২৩’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রীর উপস্থিতেই এই সহায়তা চান প্রতিমন্ত্রী।
এসময় আগামী দিনের ই-কমার্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি ই-কমার্স আইন তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এসক্রো অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীসহ ভোক্তা ও গ্রাহক যেনো প্রতারিত না হন।
পলক বলেন, আমাদের ই কমার্স খাত গড়ে ওঠার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। ইন্টারনেট, পেমেন্ট সলিউশন, লজিস্টিকস এবং বিশ্বাস এই চারটি জিনিস অত্যাবশকীয় বিষয়। ইন্টারনেট জনগণের মাঝে সহজলভ্য এবং ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছিলেন তিনি। যে কারণেই আজ দেশে ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। একইভাবে তিনি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম এবং লজিস্টিকস এর জন্য কাজ করেছেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বর্তমান সরকারের শেষ একনেক বৈঠকে পাশ হওয়া একটি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২৫ হাজার স্মার্ট নারী উদ্যোক্তা উদ্যোক্তা তৈরি করবো যাদের মধ্যে ১০ হাজার নারী উদ্যোক্তা তৈরি করবো। তাদের ৫ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারী উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ল্যাপটপ দেওয়া হবে। এছাড়াও ই-কমার্সের জন্য দেশজুড়ে ৬৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের নিচ তলায় একটি করে ওয়্যারহাউজ তৈরি করে দিবো।
তিনি জানিয়েছেন, ই-কমার্সে দেশে ৫০ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই নারী। ই-কমার্স ইকো-সিস্টেমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার অনুপ্রেরণাতেই ডিজিটাল হাট স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, এবং ই-ক্যাবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক।
ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, আইসিটি সচিব মোঃ সামসুল আরেফিন, ডব্লিউটিও মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদেশি অতিথি, ই-ক্যাব সহ সভাপতি সাহাব উদ্দিন শিহাব, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, ই-ক্যাব পরিচালক ও ইকমা-২০২৩-এর আহ্বায়ক খন্দকার তাসফিন আলম ও পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, বেসিস প্রাক্তন সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







